মাহমুদুল হাসান :: ভারত হতে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানিকৃত একটি মোটরপার্সের পণ্য চালান আটক করেছে বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। কাস্টমস সূত্রে জানা যায়,আমদানিকারক প্রতিনিধির পক্ষে বন্দর হতে পণ্য চালানটি খালাসের দায়িত্বে ছিলো সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট এস এ ট্রেডার্স এর স্বত্বাধীকারী এবং বেনাপোল বন্দরের তালিকাভুক্ত শুল্ক ফাঁকিবাজ যুবলীগ নেতা ইকরামুল কবীর সোহাগ।
গত সোমবার ( ১৯ জানুয়ারী )বেনাপোল বন্দরের কার্গো ভেহিকেল টার্মিনালে থাকা ভারতীয় ৩টি ট্রাক বোঝাই এই পণ্য চালান আটক করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। পরে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে উক্ত পণ্য চালানটির মালামাল গননা শেষে ৩টনের অধিক মিথ্যা ঘোষণায় আনা আমদানি পণ্য চালান জব্দ করা হয়। যাহার আনুমানিক রাজস্ব আদায় মূল্য হবে ১৫ লাখ হতে ২০ লাখ টাকা।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জব্দকৃত পণ্য চালানটিতে ৩ টনের অধিক মালামাল আমদানিকারকের ঘোষণা বর্হিভূত( এস এস কোডের মিল নাই )পণ্য রয়েছে বলে নিশ্চিত করেন বেনাপোল কাস্টমসের মিডিয়াসেলের দায়িত্বরত সহকারী কমিশনার রাহাত হোসেন।
বেনাপোল কাস্টমস সূত্রে জানা যায়,পণ্য চালানটির মেনিফেস্ট নাম্বার- ৬০১-২০২৬-০০৩-০০০-৩৩২৬,বি/ই নং- ৮৭৭০৯৭৯ এবং কাগজপত্র দাখিলের তারিখ- ০৭/০১/২০২৬। পণ্যচালনটি বহণকৃত ভারতীয় ট্রাক গুলো হলো- ডাব্লু বি-২৫ কে৩০২৯,ডাব্লু বি ২৩সি-০১৮২ ও ডাব্লু বি ২৯-১০১৬)।ঘোষণাপত্রে ১২৩১ প্যাকেজ পার্টস অফ এ্যাসোসিারিজ ফোর হুইলার পার্টস উল্লেখ রয়েছে।
আমদানিকৃত পণ্য চালানের ঘোষীত গ্রস ওয়েট ৪১হাজার ৭৬ কেজি এবং নিট ওয়েট ৩৪হাজার ২৪৫ কেজি। আটককৃত মালামাল গননাকালীন সময়ে দেঢ়টনের অধিক মিথ্যা পণ্য ঘোষণায় আনা টু-হুইলার পার্টস পাওয়া যায়।
নথী অনুযায়ী ভারতের রপ্তানী কারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স এ্যাপেক্স ইন্টারন্যাশনাল ও বাংলাদেশী আমদানিকারক যশোরের শাহিন এন্টার প্রাইজ।
আটকৃত পণ্য চালানের বিষয়ে আমদানিকারক প্রতিনিধি এস এ ট্রেডার্সের মালিক সোহাগের নিকট জানতে চাইলে,ছাড় পাওয়ার উদ্দেশ্যে তার দাখিলকৃত কাগজপত্রের পণ্য চালানটি আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে গনমাধ্যমকর্মীকে জানান,এই পণ্য চালান সঠিক থাকলেও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ইচ্ছে করেই আমদানিকৃত পণ্যচালানের উপর অতিরিক্ত শুল্কধার্য্য করতে চাইছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,বিগত ৫ আগস্ট ২০২৪ ইং তারিখের বেনাপোল বন্দরে আগত আমদানি পণ্য চালানে,সরকারী শুল্ক ফাঁকি দিতে সচেষ্ট রয়েছে ফ্যসিস্ট আওয়ামীলীগের যশোর জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বেনাপোল পৌরসভার সাবেক মেয়র লিটনের খালাতো ভাই ইকরামুল কবীর সোহাগ।
আর একাজে বড় অঙ্কের ঘুস নিয়ে সরকারী রাজস্ব ফাঁকি দিতে আমদানিকারকদের নিয়মিত সুবিধা দিচ্ছেন, কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার অতুল গোস্বামী,আই আর এম শাখার দায়িত্বে থাকা রাজস্ব কর্মকর্তা মনিউর,রাজস্ব কর্মকর্তা সনজুসহ কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা।
নব নিযুক্ত বেনাপোল কাস্টসম কমিশনার মোঃ ফাইজুর রহমানের যোগদানের পর হতে বেনাপোল বন্দরে একের পর এক আমদানি পণ্য চালান আটক হতে দেখা যাচ্ছে,যা নিয়ে বেনাপোলের স্থানীয়দের মাঝে শঙ্কা তৈরী হয়েছে । তবে কি কাস্টমস কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে শুল্ক ফাঁকির পণ্য চালান বন্দর হতে অবাধে বের হতো? এমন প্রশ্ন এখন জনমনে।
এর আগে বেনাপোল সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের সদস্য নাজমা আক্তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তার ফেসবুকে স্বচ্ছ ব্যবসায়ীদের দূর্ভোগের কথা তুলে ধরে,সোহাগসহ কিছু দূর্নীতিগ্রস্থ আমদানিকারক ও সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট ব্যবসায়ীদের কারনে ব্যবসা-ই করতে পারছেন না বলে একটি পোস্ট ছাড়েন।
এরই সূত্র ধরে ইকরামুল কবীর সোহাগের ব্যাপারে অধিকতর খোঁজ খবর নিলে চক্ষু চড়ক গাছ। বিগত ২৮ মে ২০২৫ইং তারিখ বৃহষ্পতিবার বেনাপোল স্থলবন্দর হতে পণ্য খালাস নেওয়ার চেষ্ঠায় এস এ ট্রেডার্স বেনাপোল কাস্টমস হাউসে জাল ডকুমেন্টস সাবমিট করেন।যাহার সি নাম্বার-সি-৪৮৯০০,ম্যানুফেস্ট নং-২০২৫২১৯ ও ইউএসডি-৩৯৮৪৪ ডলার।
পরীক্ষনকালীন সময়ে দাখিলকৃত কাগজপত্র জাল প্রতীয়মান হলেও বড় অঙ্কের ঘুস দিয়ে রাজস্ব কর্মকর্তা মনিউরকে ম্যানেজ করেই সোহাগ সে যাত্রা কাস্টমস কর্তৃপক্ষের নেওয়া লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত হতে রক্ষা পাই বলে জানা গেছে । অভিযুক্ত কাস্টমস কর্মকর্তা মনিউরের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও রিসিভ না করাসহ অন্যান্যদের সাথে সাক্ষাৎ এর চেষ্ঠা চালালেও সাক্ষাৎ না মেলায় বক্তব্য নেওয়া যাইনী।
রাজনৈতিক পালাবদলে শুল্ক ফাঁকিবাজ চক্রের অনেকে থমকে গেলেও সোহাগ কতিপয় বিএনপি নেতাদের ছত্র ছায়ায় একের পর এক চুটিয়ে আমদানি পণ্য চালানে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে রাতারাতি কোটিপতি বনেগেছেন বলে আরো জানা গেছে। সোহাগের জ্ঞাত আয় বর্হিভূত আর্থ সম্পদের বিবরন ও হিসাব দুদকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর তদন্ত করলে নিয়মিত শুল্ক ফাঁকি কান্ডে জড়িতের প্রমান মিলবে বলে স্থানীয় একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেন।
স্থানীয় সুশীল সমাজসহ স্বচ্ছ আমদানিকারক ও সি অ্যান্ড এজন্ট ব্যাবসায়ীদের দাবি বেনাপোল কাস্টমস হাউসের বহু বিতর্কিত কর্মকর্তাদের অপসারণ করে দূর্নীতির ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নিতী বাস্তবায়নের।













