শুক্রবার, ৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৩শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৭ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

আমদানিকারকদের শুল্ক ফাঁকিতে সহায়তা দিচ্ছে রাজস্ব কর্মকর্তা সনজু ও এসি অতুল

আমদানি কারকদের শুল্কফাঁকিতে সহায়তা দিচ্ছে রাজস্ব কর্মকর্তা সনজু ও এসি অতুল
আমদানি কারকদের শুল্কফাঁকিতে সহায়তা দিচ্ছে রাজস্ব কর্মকর্তা সনজু ও এসি অতুল

স্টাফ রিপোর্টার :: সরকারী রাজস্ব ফাঁকি কাজে সিদ্ধহস্ত বেনাপোল কাস্টমস হাউসের দূর্নীতিগ্রস্থ রাজস্ব কর্মকর্তা সনজুর অবৈধ্য ঘুস বানিজ্যের অন্যতম সহযোগী সহকারী কাস্টম কমিশনার অতুল গোস্বামী। বিগত ৫ আগস্ট ২৪ তারিখে সরকার পতনের পর হতে দেশ জুড়ে প্রসাসনের সকল স্তরে কার্যক্রমের স্থবিরতাকে পুঁজি করে স্থানীয় শুল্ক ফাঁকিবাজ ব্যবসায়ী চক্রের সাথে হাত মিলিয়ে সিন্ডিকেট গড়ে তুলে নিয়মিত সরকারী রাজস্ব ফাঁকি কাজে সহযোগীতা দিয়েছেন রাজস্ব কর্মকর্তা সনজু।

একাজে অসাধু ব্যবসায়ীদের কাছ হতে এই দুই কর্মকর্তা অবৈধ আয় করেছেন কয়েক কোটি টাকা যা এনবি আরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সুষ্ঠ তদন্তে বেরীয়ে পড়বে। এই দুই কাস্টমস কর্মকর্তার অনিয়ম-দূর্নীতির কবলে সরকার নিয়মিত ভাবে রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে।

এ নিয়ে গত ৮ ডিসেম্বর ২৫ইং তারিখে রাজস্ব কর্মকর্তা সনজুর অনিয়ম-দূর্নীতি,হয়রানী ও অবৈধ্য ঘুস বানিজ্য নিয়ে দেশের একাধিক পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টালে খবর প্রকাশিত হলেও টনক নড়েনী উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের। উল্টো সনজু’র অবৈধ্য ঘুস বানিজ্যের অপকর্মের বৈধতা দিতে জোরালো ভুমিকা রাখছেন সহকারী কমিশনার অতুল গোস্বামী।

স্থানীয় আমদানিকারকদের সনজুর বিরুদ্ধে অনিয়ম-দূর্নীতির একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যাপক খোঁজ খবর নিলে অর্থ বানিজ্যে একই আমদানি পণ্য চালানে কতিপয় আমদানি কারককে শুল্ক কমিয়ে নিন্ম মূল্যে শুল্কায়নের সত্যতা মিলেছে। আমদানি পণ্য চালানের শুল্কায়নে অনিয়মের কারন জানতে রাজস্ব কর্মকর্তা সনজুর মুঠো ফোনে কল দিলে তিনি সাংবাদিক পরিচয়ে সংযোগ কেটে দেওয়ায় বক্তব্য জানা যাইনী।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসে সংরক্ষিত থাকা ডাটা বেজ পর্যালোচনাকালে ভারত হতে রপ্তানীকৃত জি এন এক্সপোর্টাসের ইনস্লুটিং বার্নিস ফর কপার ( ৩২০৮১০২০) নিয়মিত ভাবে সর্বনিন্ম মূল্যে শুল্কায়ন করা হয়েছে। বি/ই নং-৮৯৯৬২, ৮৬৯৭৮,৮৫৩৬৫,৮৭৭০১,৮৯৯৮২,৮৫৩৬৫সহ ২০টির অধিক পণ্য চালানে নিয়মিত ১,২০ডলারে পণ্য শুল্ক মূল্য ধ্যার্য করতে দেখা গেছে যা নিয়ে আমদানিকারক মহলে শংসয় দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় আমদানিকারকদের সাথে কথা বললে তারা শুল্কায়নে বৈষম্য ও অসজ্ঞতির কথা তুলে ধরে জানাই একই কোডের পণ্য চালান তারা কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছ ২.৭৫ ডলার আবার কেউ ৩.২৬ ডলার শুল্কায়নে পণ্য খালাস পেয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে বেনাপোল কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার অতুল গোস্বামীর মুঠোফোনে কল দিলে অনিয়ম হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন,ইনস্লুটিং বার্নিশের গ্রেড ভেদে আমদানি পণ্যচালানগুলো শুল্কায়ন করা হয়েছে। অন্যদের ক্ষেত্রে একই কোডের পণ্য বেশী মূল্যে শুল্কায়নে বৈষ্যম সৃষ্টিসহ অনিয়ম এবং ডাটা বেজে পণ্যের গ্রেড উল্লেখ না থাকার প্রশ্নে তিনি কোন সদউত্তর দিতে পারেননী।

কর্মকর্তাদের ঘুস বানিজ্যের ফাঁদে আমদানি পণ্য চালানের শুল্কায়নে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের মিডিয়া সেলের দায়িত্বে থাকা সহাকারী কমিশনার রাহাত হোসেনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন,বিষয়টি কমিশনার মহোদয়কে অবগত করে দ্রুতই কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষের অবহেলায় অসাধু কর্মকর্তাদের অবৈধ্য ঘুস বানিজ্যে বেনাপোল বন্দরে রাজস্ব আহরোনের লক্ষ্যমাত্রা পূরন হচ্ছে না বলে জানা গেছে। বিষয়টি উদ্বেগ ও উৎকন্ঠার হলেও নীরব ভূমিকায় প্রশাসন। বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহীতা ফেরাতে জাতীয় রাজস্ববোর্ডের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সুশীল সমাজ।

সম্পর্কিত