
জাহিদুল ইসলাম জাহিদ :: যশোরের বেনাপোল এলাকায় গত ১২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বিজিবির একটি ট্রাকের ধাক্কায় রোমান শেখ (২১) নামের এক সাইকেল আরোহীর মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে মানবিকতা ও দায়িত্ববোধের প্রশ্ন উঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পর আহত অবস্থায় রোমান শেখ কিছু সময় জীবিত ছিলেন এবং সড়কের পাশেই পড়ে ছিলেন। এসময় আশপাশের সাধারণ মানুষ এগিয়ে এসে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেওে এগিয়ে আসেনী বিজিবি সদস্যরা।
অভিযোগ রয়েছে, ঘটনাস্থলের কাছেই থাকা বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড ( বিজিবি )-এর আমড়াখালি ক্যাম্প, পাশে একটি গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকলেও তাদের পক্ষ থেকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যায়নি। পাশে থাকা বিভিন্ন মানুষ বিজিবিকে তাদের গাড়িতে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করলেও তারা কোন ভ্রুক্ষেপ করেনি। এ নিয়ে আত্মীয় স্বজন সহ স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।
নিহতের পরিবারের দাবি, দুর্ঘটনার পরপরই যদি তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হতো, তাহলে হয়তো তার জীবন বাঁচানো সম্ভব হতো। একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করেন,এ ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু সংবাদ ও ভিডিও প্রকাশ পেলেও পরবর্তীতে সেগুলো ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে।
সচেতন মহলের প্রশ্ন, “গোল্ডেন টাইম”-এ দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা যেখানে জীবন রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে কেন তা নিশ্চিত করা হলো না? যদিও এ প্রশ্নের নির্দিষ্ট উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি,তবুও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঘটনার সবচেয়ে মর্মান্তিক দিক হলো একদিকে সাধারণ মানুষ সীমিত সামর্থ্য নিয়েও একজন আহত মানুষকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছে,অন্যদিকে দায়িত্বপ্রাপ্ত বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ফলে বিষয়টি এখন আর শুধু একটি দুর্ঘটনায় সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি দাঁড়িয়েছে দুর্ঘটনার পর দায়িত্ব ও মানবিক আচরণের জায়গায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বা রাষ্ট্রীয় বাহিনীর প্রতি মানুষের প্রত্যাশা সবসময় বেশি থাকে। জরুরি মুহূর্তে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা তাদের পেশাগত দায়িত্বের অংশ। সেই জায়গা থেকেই বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি)-এর এই ঘটনার ভূমিকা নিয়ে পেশাদারিত্বের প্রশ্ন উঠছে।
তবে এ বিষয়ে সঠিক তথ্য উদঘাটনে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগের সত্যতা, ঘটনাস্থলের বাস্তবতা এবং দায়িত্বপ্রাপ্তদের করণীয় সবকিছুই খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এবিষয়ে নাভারণ হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ওসি গোপাল কর্মকার জানান, দূর্ঘটনা পরবর্তী শার্শা থানায় পরিবার বাদী হয়ে মামলা রেকর্ড হয়েছে। যার তদন্ত কার্যক্রম আমরা পরিচালনা করছি।
সবশেষে একটি বিষয় স্পষ্ট দুর্ঘটনা এড়ানো সবসময় সম্ভব না, কিন্তু দুর্ঘটনার পর মানবিক দায়িত্ব পালনই একটি প্রতিষ্ঠান ও সমাজের প্রকৃত মানদণ্ড নির্ধারণ করে। যার দায়ভার এড়ানো সম্ভব নয়।











