
স্টাফ রিপোর্টার :: বেনাপোল কাস্টমস হাউসের একাধিক কর্মকর্তার ইন্ধনে গড়ে ওঠা শুল্ক ফাঁকি সিন্ডিকেটের সহায়তায় ছাড় পাওয়া বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় পণ্য পাচার কাজে বাঁধ সাধছে বর্ডারগার্ড বাংলাদেশ বিজিবি। গত সোমবার ( ৩০মার্চ ) রাতে আমড়াখালী বিজিবি চেকপোস্ট এলাকায় এস এ পরিবহন কুরিয়ার এর ( ঢাকা মেট্রো- উ-১৪-২০১৩) একটি কাভার্ডভ্যান তল্লাশীকালে বিপুল পরিমান অবৈধ ভারতীয় পণ্য উদ্ধার করা হয়।
জব্দকৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন প্রকার চকলেট,ফেসওয়াশ,সিসা তেল,পন্ডস সুপার লাইট জেল,ওয়েভ কন্ডিশনার,দুলহান তেল ও প্রোটিন পাউডার। বিজিবি সূত্রে পাওয়া তথ্যে এসব পণ্যের সিজার মূল্য আটাশ লক্ষ তেইশ হাজার নয়শত টাকা। জব্দকৃত মালামাল গুলো পাসপোর্টযাত্রীর সাথে ল্যাগেজ সুবিধায় এনে তা কুরিয়ার সার্ভিসে বুকিং করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এমন সংবাদে ব্যাপক খোঁজ খবর নিলে সত্যতা পাওয়া যায়।
বেনাপোল কাস্টমস হাউসের রাজস্ব কর্মকর্তা কামরুন নাহারের নেতৃত্বে বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশানে চলছে শুল্ক ফাঁকির মহোৎসব। ইমিগ্রেশানে তার ডিউটি কালীন সময়ে পাসপোর্ট যাত্রীর ল্যাগেস প্রতি ৩হাজার টাকা ঘুস গ্রহণ করে সাথে আনা অতিরিক্ত পণ্যের শুল্ক ফাঁকিতে নিয়মিত সহায়তা দিচ্ছেন।
কামরুন নাহারের সবুজ সংকেত পাওয়ার অপেক্ষায় ভারতীয় পাসপোর্টধারী ল্যাগেস ব্যবসায়ীদের ইমিশ্রেশান ভবনে জড়ো হওয়ার ভিডিও ফুটেজ ও স্থির চিত্র সংরক্ষিত আছে। সেখানে দেখা যায় তার ইশারায় ইমিগ্রেশান ভবন হতে ১০ মিনিটে বের হয় ভারতীয় পণ্য বোঝাই শুল্ক ফাঁকির শত শত ব্যাগ। একই কাজে রাজস্ব কর্মকর্তা হারাধনসহ একাধিক কাস্টমস কর্মকর্তা জড়িত বলে জানা গেছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের সহিত যোগাযোগের চেষ্ঠা চালিয়ে তাদের সাক্ষাৎ না পাওয়ায় বক্তব্য জানা যাইনী।
শুল্ক ফাঁকিতে কাস্টমস কর্মকর্তাদের সহায়তা প্রদান বিষয়ে ইমিগ্রেশান শাখার দায়িত্বে থাকা এসি অতুল গোস্বামীকে একাধিকবার অবগত করলেও অভিযুক্ত রাজস্ব কর্মকর্তার ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেইনী। গুঞ্জন রয়েছে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের উপর হতে নিচু সব কর্মকর্তায় ল্যাগেস সিন্ডিকেটের কাছ হতে মোটা অঙ্কের অর্থ পায়।
ল্যাগেস সুবিধায় ভারত হতে আনা বিপুল পরিমান ভারতীয় পণ্য জব্দের রহস্য জানতে শুল্ক ফাঁকিতে প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়ার প্রশ্নে?চোরাচালানী রোধে ইমিগ্রেশান এলাকায় দায়িত্বে থাকা ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আইসিপি ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার আব্দুল কাদের বলেন কর ফাঁকি রোধ করার দায়িত্ব কাস্টমস কর্তৃপক্ষের।এ বিষয়ে আপনারা কাস্টমকে জিজ্ঞেস করেন। বিজিবির নিয়মিত কার্যক্রমের টেবিল চেকিং এ কাস্টমস ছাড় পাওয়া পাসপোর্ট যাত্রীর সাথে আনা অতিরিক্ত পণ্য ডি এম করা হচ্ছে।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশান দিয়ে ল্যাগেস সুবিধায় চোরাচালানী পণ্য বহন এখন ওপেন সিক্রেট। একাজে সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব হারালেও মাথা ব্যথা নেই বেনাপোল কাস্টমস কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। অনিয়ম-দূর্নীতির যাতাকলে পিষ্ঠ বেনাপোল ইমিগ্রেশান ব্যাবস্থপনায় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি।












