
শেখ সেলিম :: যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত বৃহষ্পতিবার (১২মার্চ ) রাতে বন্দরের ৩৭নং শেডে ১০০প্যাকেজ বেকিং পাউডারের চালান আটকের ঘটনায় আলোচনা সমালোচনার জোয়ারে ভাসছে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের যুগ্ন কমিশনার সাইদ আহম্মেদ রুবেল।
বেনাপোল কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বেকিং পাওডারের ঘোষণা দিয়ে শুল্ক ফাঁকি চেষ্টায় ভারতীয় উন্নতমানের শাড়ী,থ্রিপিচ,কসমেটিক্স ও ক্যামিক্যাল পণ্য আমদানি করেন। পণ্য চালানটির আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সাফা ইমপেক্স এবং পণ্যচালানটি খালাসের দায়িত্বে ছিলো সি এন্ড এফ এজেন্ট প্রতিষ্ঠান হুদা ইন্টার ন্যাশনাল।পণ্য চালানটির মেনিফেস্ট নাম্বার ৬০১/২০২৬/০০১/০০১৬৩৩৩/০৩ ও এলসি নাম্বার ০০০০১৮১১২৬০১০৫৬৪।
এ ঘটনার কয়েকমাস পূর্বে গত ২২ অক্টোবর ২০২৫ইং তারিখে বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ভারতীয় ট্রাক নং- ডাব্লু বি-৩৩ডি-১০২৭, ডাব্লুবি-০২সি৫৯২১ ও ডাব্লু বি-১১সি-৩১৩৩ ট্রাক যোগে বেনাপোল স্থলবন্দরে মিথ্যা ঘোষণায় আনা ১৩ কোটি টাকা মূল্যের পণ্য চালান আটক করে। যাহার মেনিফেস্ট নং-৬০১-২০২৫-০০৩০০৬১২৪৭-০৯। পণ্য চালানটি পরিক্ষণ কালে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ঘোষণা বর্হিভূত পণ্য ১০ লাখ ৮০ হাজার পিস জিলেট ব্লেড ও তিন প্যাকেজ অন্যান্য পণ্য জব্দ করেন। ঐ পণ্য চালানটির আমদানি কারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স আশিকুল ইসলাম এন্ড সন্স থাকলেও আমদানিকারক প্রতিনিধি ছিলো এই মেসার্স হুদা ইন্টার ন্যাশনাল।
বেনাপোল স্থলবন্দরে একের পর এক শুল্ক ফাঁকি চেষ্ঠার পণ্য চালান আটকের ঘটনায় দৈনিক যশোর বার্তাসহ একাধিক অনলাইন পোর্টালে “ জেসি রুবেলের সবুজ সংকেতেই মিথ্য ঘোষণায় আনা হয় বেনাপোল বন্দরে আটক হওয়া ৬ কোটি মূল্যের পণ্য” শিরোনামে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
বিপরীতে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের যুগ্ন কমিশনারের সফলতা তুলে ধরে অনলাইন পোর্টাল বার্তা কন্ঠসহ একাধিক অনলাইনে “বেনাপোলে ৩ কোটি ৩৫লাখ টাকার বেশী রাজস্ব ফঁকি ধরা,অপপ্রচারের শিকার যুগ্ন-কমিশনার সাইদ আহমেদ রুবেল” শিরোনামে পাল্টা সংবাদ প্রচার হয়েছে।
আদতে বেনাপোল কাস্টমস কর্মকর্তা রুবেলকে ঘীরে পক্ষে-বিপক্ষে প্রকাশিত সংবাদ গুলোতে বেনাপোল স্থলবন্দরে শুল্ক ফাঁকির পণ্য চালান আটকের সত্যতাসহ শুল্ক ফাঁকিতে জড়িতরা সরকারী রাজস্ব ফাঁকি দিতে মরিয়া হয়ে ওঠেছে তা তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে।
বেনাপোল স্থলবন্দরে মিথ্যা ঘোষণার পণ্য চালান আটক ও সে ঘটনায় কাস্টমস কর্মকর্তা রুবেলের যোগ সাজজের গুঞ্জনের খবরে জনমনে জটলা তৈরী হয়েছে।
বেনাপোল কাস্টমস কর্মকর্তা রুবেল কর্তৃক কতিপয় আমদানিকারককে পণ্য খালাস প্রক্রিয়ায় বাড়তি সুবিধা দেওয়াসহ তার সবুজ সংকেতে ৬ কোটি টাকার মিথ্যা ঘোষণায় আনা পণ্য চালানটি বেনাপোল বন্দরে প্রবেশের অভিযোগের সত্যতা অনুসন্ধানে ব্যাপক খোঁজ খবর নিলে চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্র থেকে জানা যায়,ঢাকা জেলার নারায়নগঞ্জের বাসিন্দা বেনাপোল কাস্টমস হাউসের যুগ্ন-কমিশনার সাইদ আহম্মেদ রুবেল ২০২০সালে বেনাপোল কাস্টমস হাউসে ডেপুটি কমিশনার হিসাবে যোগদান করেন। সে সময় থেকে বেনাপোল পৌরসভাধীন গাজীপুর গ্রামের মৃত লাল মিয়ার ছেলে মাসুদ রানার সাথে গভীর সখ্যতা গড়ে ওঠে। রানা এলাকায় তার মাতা জুলেখার ছেলে নামেই পরিচিত।
জেসি রুবেলের সাথে রানার পারিবারিভাবেই সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে জানা গেছে। এমনকি রুবেল সরকারী কাস্টমস কর্মকর্তা হওয়া স্বত্তেও প্রটোকল বাদেই রানার বাড়ী যাওয়া আসা করতো।রানা ভারত হতে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে আমদানি করা দুটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মেসার্স হুদা ইন্টারন্যাশনালের কর্মচারী।
কাস্টমসের বড় কর্তার সাথে সু সম্পর্ক থাকার সুবাধে রানা ঘুরিয়েছে তার ভাগ্যের চাকা। মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য খালাসের কাগজপত্র দাখিলের দায়ে অনেক আগেই মেসার্স হুদা ইন্টার ন্যাশনালের সি এন্ড এফ এজেন্ট বাতিল হওয়ার কথা থাকলেও রানার সহিত রুবেলের গভীর সখ্যতার কারনে সে যাত্রা বড় অঙ্কের টাকা রুবেলকে দিয়ে লাইসেন্স বাঁচায় মালিক কর্তৃপক্ষ।
এছাড়াও ভারতীয় রপ্তানীকারক জি এন এক্সপোর্টস ও বাংলাদেশী আমদানিকারক এস এস ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল পণ্য চালানে একাধিকবার বিধি বর্হিভূত ভাবেই নিন্ম শুল্ক ধার্য্য মূল্যে পণ্য খালাস নিতে সহায়তা দিয়েছেন। এর ফলে সরকার কয়েক কোটি টাকার রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে বলে একাধিক আমদানিকারক অভিযোগ জানান।
তারা বলেন ভারত হতে একই এইচ এস কোডে( ৩২০৮১০২০) আনা আমদানি পণ্য আমরা ২.৭৫ ডলার শুল্ক পরিশোধে পণ্য খালাস পাই। অথচ জেসি রুবেলের সবুজ সংকেতে আমদানিকারক প্রতিনিধির সাথে দায়িত্বশীল রাজস্ব কর্মকর্তাদের পূর্ব চুক্তিমোতাবেক পণ্য চালান ঢোকালে তা ১.২০ ডলার শুল্ক পরিশোধে খালাস পাই। আমরা বহুবার কাস্টমস হাউসের উর্ধতণদের নিকট অভিযোগ জানিয়েও সুরাহ পাইনী।
অভিযোগের সূত্র ধরে বেনাপোল কাস্টমস হাউসে সংরক্ষিত থাকা ডাটা বেজ পর্যালোচনাকালে ভারত হতে রপ্তানীকৃত জি এন এক্সপোর্টাসের ইনস্লুটিং বার্নিস ফর কপার ( ৩২০৮১০২০) নিয়মিত ভাবে সর্বনিন্ম মূল্যে শুল্কায়ন করা হয়েছে। বি/ই নং-৮৯৯৬২, ৮৬৯৭৮,৮৫৩৬৫,৮৭৭০১, ৮৯৯৮২, ৮৫৩৬৫সহ ২০টির অধিক পণ্য চালানে নিয়মিত ১,২০ডলারে পণ্য শুল্ক মূল্য ধ্যার্য করতে দেখা গেছে। এখানে বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষের উর্ধতণ অফিসারদের অনিয়ম ও বৈষম্য পরিলক্ষীত হয়।
স্থানীয় সুশীল মহলের দাবী বেনাপোল স্থলবন্দরে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আটককৃত পণ্য চালানগুলী অধিকাংশই এন এস আই এর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে। তারা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রালয় ও রাজস্ব বোর্ড এর দৃষ্টি আকর্ষণ করে মিথ্যা ঘোষণায় আটকৃত পণ্য চালানসহ অভিযুক্ত খালাস দেওয়া পন্য চালানের কাগজপত্র গুলো পুনঃরায় খতিয়ে দেখার আহবান জানিয়েছেন।












