
স্টাফ রিপোর্টার :: ভারত হতে বেনাপোল বন্দরে আসা আমদানীকৃত পচনশীল পণ্যকে টার্গেট করেই লাগামহীন অর্থবানিজ্যে মেতেছে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের রাজস্ব কর্মকর্তা উদ্ভব চন্দ্রপাল। আমদানি পণ্য চালানে সন্তোষ জনক অর্থ পেলেই শুল্ক ফাকিঁতে সহায়তা দেন এই রাজস্ব কর্মকর্তা বলে জানা গেছে।
বিপরীতে চাহিদা মত ঘুসের টাকা না পেলেই পণ্য খালাস প্রক্রিয়ায় ভুল খুঁজে আমদানী কারক প্রতিনিধিদের হয়রানী করার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তিনি বেনাপোল কাস্টমস হাউসের পরীক্ষণ গ্রুপ-৩ এর দায়িত্বে রয়েছেন।
রাজস্ব কর্মকর্তার অনিয়ম দূর্নীতি নিয়ে “ বেনাপোল কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা উদ্ভব চন্দ্রের খুঁটির জোর কোথায়” শিরোনামে একাধিক পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলেও কোন পদক্ষেপ নেইনী বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
ঘুস আদায়ের লক্ষ্যে রাজস্ব কর্মকর্তা উদ্ভব চন্দ্র কর্তৃক আমদানি কারককে হয়রানি দেওয়ার অভিযোগ বিষয়ে ব্যাপক খোঁজ খবর চালালে সত্যতা পাওয়া যায়। দুদকের সুষ্ঠ তদন্তে অসাধু সরকারী কর্মকর্তা উদ্ভব চন্দ্রের জ্ঞাত আয় বর্হিভূত অর্থ সম্পদের হিসাব কষলেই রাজস্ব ফাঁকিতে সহায়তা প্রদানসহ তার দূর্নীতির মাধমে অর্জিত অবৈধ আয়ের ফিরিস্তি বের হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,পচনশীল পণ্য পরীক্ষণের নামে ট্রাক প্রতি ১০ থেকে ২৫হাজার টাকা নিয়ে ফাইলে সাক্ষর করেন তিনি। ঢাকার এক ফল ব্যবসায়ী ও আমদানিকারক সারাফাত রাজস্ব কর্মকর্তা উদ্ভব এর অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন,বেনাপোলের রয়েল ও উজ্জলসহ কতিপয় আমদানিকারকের পণ্য চালান বড় অঙ্কের অর্থ চুক্তিতে কোন প্রকার পরীক্ষন ছাড়াই পরীক্ষণ রিপোর্ট দেন তিনি।
এতে করে পণ্যের ওজন ফাঁকি ও শুল্ক নির্ধারনে তারতম্য হয়ে সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব বঞ্চিত হয়। অথচ পণ্য খালসের সব কাগজ পত্র ঠিক থাকলেও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ফাইলে সাক্ষর নিতে গেলে পণ্য চালানে টি আর ( ট্যাক্স রেগুলেশনস ) না দেওয়া সহ গাড়ীর পণ্য নামিয়ে পরীক্ষণ করার কথা বলে হয়রানী করে থাকে।
অভিযোগ বিষয়ে জানতে রাজস্ব কর্মকর্তা উদ্ভব চন্দ্র পালের ব্যক্তিগত মুঠো ফোনে কল দিলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিন কোন উত্তর না দিয়ে সংযোগ কেটে দেন।
বেনাপোল বন্দরের স্থানীয় একাধিক সূত্রের দেওয়া প্রাপ্ত তথ্যে জনা যায়, বেনাপোল কাস্টমস হাউসে রাজস্ব কর্মকর্তা উদ্ভব চন্দ্র যোগদানের পর হতেই স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যাক্তি বর্গের সাথে সখ্যতা গড়ে পচনশীল পণ্য খালাসে সুবিধা দিতে সিন্ডিগেট গড়ে তুলে ঘুস বানিজ্যে লিপ্ত হয়েছেন। গত ৫আগস্ট ২০২৪ পরবর্তী সময়ে বেনাপোল বন্দরের কাঁচামাল পণ্য পরীক্ষণে কোন অনিয়ম পাইনী কাস্টমস কর্তৃপক্ষ যা জনমনে রহস্যজনক ও প্রশ্নবিদ্ধ ব্যাপার।
বেনাপোল কাস্টমস কর্মকর্তার লাগামহীন অনিয়ম- দূর্নীতির ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ বিষয়ে কথা বলতে কাস্টমস কমিশনার আবু হোসেন মোহাম্মদ খালিদের নাম্বারে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ না করায় বক্তব্য জানা যাইনী।