স্টাফ রিপোর্টার :: বাংলাদেশের বৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল বন্দরে দীর্ঘদিন ধরেই ওজন কারসাজির অভিযোগ রয়েছে। ওজন স্কেল ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হচ্ছে ব্যাপক রাজস্ব ফাঁকি।এর নেপথ্যে বেনাপোল বন্দরের হাফিজুর সুইট সিন্ডিকেট।
ওজন কম দেখানো,ডুপ্লিকেট ওজন স্লিপ,আংশিক খালাস ও ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপের মত কৌশল এটে কিছু অসাধু আমদানিকারক, সি এন্ড এজেন্ট প্রতিনিধির কাছ হতে লাখ লাখ টাকা ঘুস নিয়ে আমদানি পণ্য চালানে রাজস্ব ফাঁকিতে সহয়তা দিচ্ছে এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা।
স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় জালিয়াতি ও অবৈধ্যভাবে পণ্য খালাসের অভিযোগে বেনাপোল স্থলবন্দর থেকে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে শাস্তিমূলক বদলী করা হলেও ৫ আগস্ট ২৪ পরবর্তী সময়ে শুল্ক ফাঁকিবাজ চক্রটি জেঁকে বসেছে। এতে করে আর্থিক লচের মুখে স্বচ্ছ আমদানিকারকরা বেনাপোল বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানিতে নিরুৎসাহিত হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সি এন্ড এজেন্ট প্রতিনিধি জানান,হাফিজুর,সুইটসহ একাধিক শেড ইনচার্জ মোটা অঙ্কের অর্থ ঘুস নিয়ে নিয়মিত শুল্ক ফাঁকিতে সহায়তা দিয়ে থাকে যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুষ্ঠ তদন্তে প্রমানিত হবে।ওজন স্কেলের দায়িত্বপালন কালীন বিভিন্ন সময়ে অভিযুক্তরা আনুমানিক ৭০ হতে ৮০টি ভারতীয় ট্রাকের খালি গাড়ির ওজন বাড়িয়ে ওজন স্লিপ সরবারহ করেছে। যারা নিয়মিত ভাবে শুল্ক ফাঁকিবাজ চক্রের কাঁচামালসহ বিভিন্ন ধরনের আমদানি পণ্য বহণ করেই বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে।
অনুসন্ধানে দেখা যায় ওজন স্কেল সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য বেনাপোল বন্দরের বিল শাখার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা আশিকুর রহমান রনি। বন্দর সিন্ডিকেটের বেশিরভাগ অফিসাররা আওয়ামীলীগ সরকারের নিয়োগ প্রাপ্ত ও আওয়ামী রাজনিতীতে জড়িত থাকলেও বর্তমানে সরকার দলীয় স্থানীয় ক্ষমতাসীনদের সুবিধা দিয়েই লাগামহীন ঘুস বানিজ্যে মেতেছেন।
শুল্ক ফাঁকি চেষ্ঠায় গত ২৫ এপ্রিল ২৬ইং তারিখে বেনাপোল স্থলবন্দরে ভারত হতে আমদানিকৃত পণ্য বোঝাই( ফল )ভারতীয় ট্রাক নং- ডাব্লু-বি-২৩ এফ ৮১৪২ এর ওজন স্কেলের স্লিপে জালিয়াতির মাধ্যমে খালি গাড়ির ওজন ৫৭০কেজি বাড়ানোর অভিযোগ ওঠেছে।
অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন বলেন,এ ঘটনায় ইতিমধ্যে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপরাধ প্রমানিত হলে অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বেনাপোল স্থলবন্দর সূত্রে জানা যায়,পণ্য চালানটির আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান রোকেয়া ট্রেডার্স।পণ্য খালাস শেষে ওজন স্কেলে ওঠে গাড়ীর ওজন স্লিপ নিয়ে বের হওয়ার সময় গোয়েন্দা সংস্থার কাছে ট্রাকের ওজনে গরমিল পরিলক্ষীত হয়।
এসময় ওজন স্কেলের দায়িত্বে থাকা বেনাপোল স্থলবন্দরের ট্রাফিক পরিদর্শক হাফিজুর রহমান মিয়া মুঠো ফোনে বলেন এটি টেকনিক্যাল প্রব্লেম।একটি যন্ত্রের মধ্যে টেকনিক্যাল প্রব্লেম থাকতে পারে। তাৎক্ষনিকভাবে অন্য স্কেলে ওজন দিয়ে ঐ দিনেই মাল ডেলিভারি দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য সুত্রে জানা যায়,ভারত হতে আমদানি পণ্য চালান নিয়ে খালাশের উদ্দেশ্যে বেনাপোল স্থলবন্দরে প্রবেশরত ভারতীয় ট্রাক গুলো বন্দরের ওজন স্কেলে প্রবেশ ও বাহির মুখে একবার ওজন নিলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে বিশেষ কারন ছাড়া আর ওজন করা হয়না।
এসুযোগের অপব্যবহার করে অসাধু আমদানিকারকসহ অসাধু কাস্টমস ও বন্দরের সরকারী কর্মকর্তারা রাতা রাতি ফুলে ফেঁফে ওঠলেও সিন্ডিকেটের ফাঁদে ওজন স্কেল কারসাজিতে সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে।