শুক্রবার, ৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৩শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৭ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

বিনামূল্যে মৃতদেহ পরিবহনে ‘আমাদের অ্যাম্বুলেন্স’

বিনামূল্যে মৃতদেহ পরিবহনে ‘আমাদের অ্যাম্বুলেন্স’
বিনামূল্যে মৃতদেহ পরিবহনে ‘আমাদের অ্যাম্বুলেন্স’

জেমস আব্দুর রহিম রানা :: মৃত্যুর মুহূর্ত মানুষের জীবনের এক গভীরতম শোকের সময়। এসময় পরিবারের মানসিক বিপর্যয় যেমন তীব্র হয়, তেমনি দুরত্ব ও অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা মৃতদেহ পরিবহনের মতো মৌলিক প্রয়োজনকেও কঠিন করে তোলে। এই কঠিন বাস্তবতার মাঝেই মনিরামপুর উপজেলায় জন্ম নিয়েছে এক অনন্য মানবিক উদ্যোগ—‘আমাদের অ্যাম্বুলেন্স’।

এটি এমন একটি সেবা,যা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে মৃতদেহ পরিবহন করে মনিরামপুরে পৌঁছে দেয়। সেবা গ্রহণকারী পরিবারকে এক টাকাও বহন করতে হয় না। পদ্মা সেতু,মধুমতী উড়ালসেতু থেকে শুরু করে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে—যে কোনো সেতু বা মহাসড়কের টোলও বহন করে থাকে কর্তৃপক্ষ।

২০২৪ সালের ১ জুন থেকে শুরু হওয়া এই মানবিক উদ্যোগটির উদ্যোক্তা মনিরামপুরের কৃতি সন্তান,করোনা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য জাতীয় স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত মানবিক ডাক্তার মেহেদী হাসান।

প্রাণঘাতী মহামারির সময় তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন—একটি পরিবারের জন্য মরদেহ পরিবহন কতটা দুঃসহ হতে পারে কোথাও অ্যাম্বুলেন্স নেই,কোথাও অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করা হচ্ছে,আবার কোথাও পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য সীমিত হওয়ায় মরদেহ আনারই উপায় নেই।সেই বাস্তবতা থেকেই মানুষের শেষ যাত্রায় মানবিক সহায়তার ব্রত নিয়ে গড়ে ওঠে ‘আমাদের অ্যাম্বুলেন্স’।

পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন মোঃ শাহ্ জালাল,যিনি নিবেদিতভাবে সেবাটি পরিচালনা করছেন দিন-রাত।দেশের যেকোনো প্রান্তে কেউ মারা গেলেই ফোন পেলে অ্যাম্বুলেন্সটি রওনা দেয়। দীর্ঘ পথের টোল, জ্বালানি, কর্মীদের ভাতা—সবই কর্তৃপক্ষ বহন করে। মৃতদেহ পরিবারকে পৌঁছে দিয়ে কর্মীরা নীরবে আবার ফিরে আসে মনিরামপুরে।

ভুক্তভোগী পরিবারের কেউ বলেছেন,”এই সেবা না থাকলে আমরা হয়তো মরদেহ বাড়ি আনতেই পারতাম না।” আবার কেউ বলেছেন, “এটি কেবল অ্যাম্বুলেন্স নয়,মানবতার প্রতীক।”

সেবাটির পরিচালক মোঃ শাহ্ জালাল জানান, দিন-রাত যেকোনো সময় ফোন পেলে তারা প্রস্তুত থাকেন।রাত তিনটা হোক বা ভোর পাঁচটা—যে কোনো সময় অ্যাম্বুলেন্স বেরিয়ে পড়ে।

মনিরামপুরবাসী এই সেবাকে উপজেলাবাসীর গর্ব বলে মনে করছেন। জাতীয় পর্যায়ে মানবিক উদ্যোগগুলোর মাঝে ‘আমাদের অ্যাম্বুলেন্স’এখন আলোচিত নাম। বলা যায়—মনিরামপুরের ‘আমাদের অ্যাম্বুলেন্স’ শুধু মৃতদেহ বহন করে না; এটি বহন করছে মানুষের প্রতি ভালোবাসা,সহমর্মিতা,দায়িত্ববোধ ও সামাজিক নৈতিকতার এক উজ্জ্বল বার্তা।

সম্পর্কিত