
স্টাফ রিপোর্টার :: বেনাপোল পোর্ট থানায় যুবককে অপহরণ করে মারপিট ও হত্যা চেষ্ঠা চালানোর ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দিলেও মামলা নিতে গড়িমসি করছে পুলিশ। এছাড়াও মামলার তদন্ত কর্মকর্তার ইন্ধনে আসামী পক্ষের বি এনপি পন্থী নেতারা থানায় ঢুকে অভিযোগকারীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিচ্ছে বলে জানান ভিকটিম আকাশ ( ২৮) ওরফে সজীব।
ঘটনার বর্ননায় ভুক্তভোগী সজিব বলেন,গত বৃহষ্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারী )বিকালে নারায়ন পুর গ্রামের দেলোয়ারের ছেলে নাজমুল আমাকে বলে একই গ্রামের গ্যাসের ছেলে গাঁজা ব্যবসায়ী শাহআলম জরুরীভাবে দেখা করতে বলেছে।সেমত আমি শাহআলমের সামনে গেলে বোয়ালিয়া গ্রামের উজ্জ্বল,শাওন,সেলিম,হাসান ও মনিরকে দেখতে পাই। ওই জায়গা হতে আমাকে জোরপূর্বক মোটর সাইকেলে তুলে নিয়ে বোয়ালিয়া গ্রামের বেলে আটির মাঠে নিয়ে গাঁজা চুরির কথা বলে অজ্ঞাতনামা আরো ১০জন মোট ১৫/১৬জন মিলে আমাকে বেধড়ক মারপিট করে।
এক পর্যায়ে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।মাঝ রাতে জ্ঞান ফিরলে আমার কাছে মুক্তিপন দাবি করে আমার ইচ্ছের বিরুদ্ধে আমাকে দিয়ে ভিডিও বক্তব্য নেই ও তা মোবাইলে ধারন করে। পুনঃরায় আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারতে থাকলে আবারো আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। তাহারা আমাকে মৃত ভেবে ফেলে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা আমাকে নাভারন হাসপাতালে নিলে পরদিন সকালে আমার জ্ঞান ফেরে।
গত ২৩ ফেব্রুয়ারী আমি থানায় স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে মামলা করতে গেলে বেনাপোল পোর্টথানা পুলিশ ঘটনা তদন্ত করবে বলে লিখিত অভিযোগ নেই। পরবর্তীতে বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি আমার এজহার নিবেন বলে আশ্বস্ত করলেও অদ্যাবধি মামলা নেওয়া হয়নী। এমনকি আসামীরা প্রকাশ্য ঘুরে বেড়িয়ে আমাকে অনবরত প্রাননাশের হুমকী দিচ্ছে। বর্তমানে আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
অভিযোগটির তদন্ত কর্মকর্তার অনিচ্ছার সত্যতা নিশ্চিত করে ভুক্তভোগীর স্বজন নারায়নপুর গ্রামের বিল্লাল বলেন দলীয় রাজনৈতিক নেতাদের কথায় এখন বেনাপোল পোর্টথানা চলছে। অভিযোগ জানিয়ে মুঠোফোনে তিনি আরো বলেন,ওসি সাহেব দারোগা মানিকশাহ কে নির্দেশনা দিলেও গতকাল সকাল ১২ টা হতে আমাদের রাত ৭টা পর্যন্ত থানায় নানা অজুহাতে বসিয়ে রেখে সে আসামী পক্ষদের খবর দেই।
সেমত আসামী পক্ষের হয়ে বিএনপির কতিপয় স্থানীয় নেতা থানায় ঢুকে আমাদের মামলা না করতে নানা ধরনের ভয় ভিতীসহ হুমকী দিতে থাকে যা থানার সিসি টিভি ফুটেজ চেক করলে পাওয়া যাবে। ধারনা করছি মাদক ব্যবসায়ী ও অভিযুক্তদের সাথে তদন্ত কর্মকর্তা মানিকশাহের গোপন আতাত রয়েছে। এক পর্যায়ে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় প্রান ভয়ে থানা হতে পালিয়ে চলে আসি।
এ বিষয়ে বেনাপোল পোর্টথানার সাব ইন্সেপেক্টর মানিকশাহ এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন,বাদীর এন আই ডি কার্ড কাছে না থাকায় একটু দেরী হয়। সন্ধ্যার পর থানায় নারায়নপুর গ্রামের খোকন,মেয়াদসহ কয়েকজন স্থানীয় ব্যাক্তিরা থানায় এসে বাদীর সাথে কথা বলে বাদীকে নিয়ে যায়। বাদি মামলা করতে চাইলে মামলা নেওয়া হবে বলে তিনি আরো জানান।
অপহরন কান্ডে বেনাপোল পোর্টথানায় অভিযোগ দাখিলের ৪৮ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও পুলিশের রহস্যময়ী ভুমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন জেগেছে। মামলাসহ অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে বিলম্ব করায় পুলিশ প্রশাসনের সন্মান ক্ষুণ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। এ বিষয়ে তারা পুলিশ সুপারসহ উর্ধতণ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।












